এক বাড়িতে একটি ইঁদুরের বসবাস ছিলো একদিন বাড়ির প্রাচীরের গর্তে লুকিয়ে লুকিয়ে সে দেখছিল বাড়ির কর্তা কৃষক এবং তার স্ত্রী একটি বড় বক্স খুলেছে ইঁদুরটি ভেবেছিল যাক অনেক দিন পরে সুস্বাদু খাবার খেতে পারব কিন্তু ইঁদুরটি হতবাক হয়ে গিয়েছিল যখন সে আবিষ্কার করল যে বক্সটিতে ছিল নতুন ইঁদুরের ফাঁদ তৎক্ষণাৎ ইঁদুরটি তার বন্ধুদের সতর্ক করার জন্য দৌড়ে ছিল সে বাড়ির মালিকের একটি মোরগ একটি ভেড়া এবং একটি গরু ছিল ইঁদুর প্রথমে মুরগের কাছে গেল এবং বলল ভাই মোরগ তুমি জানো না
আমাদের বাড়ির কর্তা নতুন ইঁদুর মারার কল নিয়ে এসেছেন জানিনা কখন মারা পরবো, তাচ্ছিল্লের স্বরে মুরগ বলল- দেখ ভাই, ইঁদুর মারার কল নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই কারণ এটি এসেছে ইদুর মারার জন্য মুরগি মারার জন্য নয় ইদুরটি হতাশ হয়ে ভেড়ার কাছে গেল, বলল ভাই তুমি কি জানো ঘরে ইঁদুর মারার কল এসেছে? বলো না আমি এখন কি করবো? ভেড়াটি উত্তর দিলো ক্ষমা করবেন জনাব ইঁদুর, এই ব্যাপারে আমি আপনার জন্য কিছুই করতে পারবো না। কিন্তু এতটুকু আশ্বাস দিতে পারি যখন আপনি এই সমস্যায় পড়বেন, আমি আপনার জন্য প্রার্থণা করবো সে আরোও হতাশ হয়ে গেল এবং গরুর কাছে গিয়ে বলল-গরু ভাই তুমি তো বিশাল দেহের অধিকারী ইঁদুর মারার কল এসেছে বাড়িতে যে কোন মুহূর্তে কাটা যেতে পারি আমাকে সাহায্য করো গরুটি বলল-দেখ ভাই, আমার এই বিশাল দেহ দেখে কি তোমার মনে হয় ইঁদুর মারার কলটি আমাকে মারার জন্য এসেছে? খালি খালি আমার ঘাস খাওয়ার সময় বিরক্ত করো না তো ইঁদুরটি হতাশ এবং দুঃখভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে, ইঁদুরের কলের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলো।
অবশেষে যখন রাত্রি এলো তখন ইঁদুরটি একটি উচ্চ শব্দ শুনতে পেল এবং দৌড়ে গেল দেখতে পেল যে কৃষকের স্ত্রী ইঁদুরের কলে প্রচন্ড শব্দ শুনে তার দিকে দৌড়ে এসেছিলেন কিন্তু রাতের অন্ধকারে তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন না যে ইঁদুর ধরার ফাঁদে যা ধরা পড়েছিল তা একটি বিষাক্ত সাপের লেজ কৃষকের স্ত্রী হাত ফাঁদটিকে প্রতিস্থাপন করতে যাওয়া মাত্রই সাপটি তাকে একটি বিষাক্ত কামড় দিয়ে দেয় এটা দেখে কৃষক তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায় হাসপাতাল থেকে তিনি সুস্থ হয়ে আসেন ঠিকই কিন্তু তার জ্বর কমছিল না এবং ডাক্তার বলেছিল তাকে গরম গরম মুরগির সুপ খাওয়ানোর জন্য ফলস্বরূপ কৃষক সুপের মূল উপাদান তার একমাত্র মুরগিটি নিয়ে আসলো এবং স্যুপ খাওয়ালো এবং যেহেতু মহিলার প্রতিবেশি এবং আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ মহিলাকে দেখতে আসছিল
তাই কৃষক ভেবেছিল তাদের ভাল খাবারের জন্য ভেড়াটা জবাই করলে ভাল হয় এবং অতঃপর ভেড়াটা এনে জবাই করে সবাইকে খাওয়ানো হয় কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস উচ্চ তাপমাত্রা এবং রক্তচাপের কারণে মহিলাটি সেরে উঠেনি বরং মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলো কৃষক অনেক দুঃখ পেল এবং স্ত্রী যেন পরকালে শান্তিতে থাকে তার জন্য কুলখানিতে গরুটি জবাই করে দিল এবং সবাইকে পেট ভরে খাইয়ে দিল প্রিয় দর্শক গল্পটি থেকে আমরা কি শিখলাম? কেউ আপনার কাছে তার নিজের সমস্যা নিয়ে আসলেও তাকে দূরে ঠেলে দিবেন না। কে জানে দুদিন পরে সমস্যাটি আপনারও তো হতে পারে তাই সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনুন আপনি সর্বোচ্চ যা করতে পারবেন তা করুন মনে রাখবেন অন্যের সংকটে আমরা যেই সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করি যা পরে আমাদের কাছে প্রতিশোধ হয়ে ফিরে আসে
