Ocean Gate নামের একটি কোম্পানি পরিচালিত টাইটান নামের একটি ডুবোযান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে 5 জন যাত্রী নিয়ে সাবমারসিবল টি টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়েছিল এই ভ্রমণের জন্য জন প্রতি খরচ করতে হয় আড়াই লাখ ডলার বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য প্রায় 2 কোটি 70 লাখ টাকা টাইটানের শেষ যাত্রীরা হলেন 61 বছর বয়সী স্টকটন রাশ তিনি ওশান গেট কোম্পানির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা 48 বছর বয়সী ব্রিটিশ পাকিস্তানি ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ তার 19 বছরের ছেলে সুলেমান দাউদ এবং 58 বছর বয়সী ব্রিটিশ ধনকুবের ব্যবসায়ী হ্যামিশ হার্ডিং এছাড়া ডুবো জানটির পাইলট হিসেবে ছিলেন 77 বছর বয়সী পল-হেনরি নারজিওলেট তিনি ফরাসি সাবেক নৌবাহিনীর ডুবরি। টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাওয়া সাবমারসিবল টাইটান সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
ছোট্ট এই ডুবযানকে সবাই সাবমেরিন বলছে কিন্তু টাইটান মূলত একটি সাবমারসিবল সাবমেরিন এবং সাবমারসিবল এর মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য আছে যেসব জলযানে নিজস্ব পাওয়ার সিস্টেম ও এয়ার রিনিউয়াল সিস্টেম থাকে এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পানির নিচে বিচরণ করতে পারে সে গুলোকে সাবমেরিন বলে অন্যদিকে যে সমস্ত জলযান বড় কোনো জলযানের সাহায্য ছাড়া পানির নিচে চলতে পারে না সে গুলোকে সাবমার্চেবল বলা হয় সাবমারসিবল আবার মোটাদাগে দুই ধরনের হয়ে থাকে এক ধরনের সাবমারর্সিবল কে বলে
Human-Occupied Vehicles বা (HOVs) এবং আরেকটি ধরণ হল Remotely Operated Vehicles (ROVs)
Human-Occupied সাবমারর্সিবলে মানুষ চলতে পারে এবং Remotely Operated সাবমারর্সিবল গুলো হয় মনুষ্যবিহীন বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সাবমার্সিবল নকশা করা হয় সাধারণত সমুদ্রবিদ্যা সাগরতলের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা মহাসাগর অনুসন্ধান এডভেন্জার এবং আন্ডারওয়াটার ভিডিওগ্রাফির জন্য সাবমার্সিবল ব্যবহৃত হয়। বর্তমান সময়ের আলোচিত Ocean Gate টাইটান সাবমারর্সিবল টি পোলার প্রিন্স নামের একটি আইস ব্রেকার বার সামুদ্রিক বরফভাঙা জাহাজ থেকে লঞ্চ করা হয়
জাহাজ থেকে একটি প্লাটফর্ম সাবমারর্সিবল টিকে সমুদ্রের নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত নামিয়ে দেয় এরপর টাইটান মাতৃজাহাজের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে সমুদ্রের নিচে গিয়ে তার ভ্রমণ সম্পন্ন করে Ocean Gate টাইটানের দৈর্ঘ্য 22 ফুট প্রস্থ 9.2 ফুট এবং উচ্চতা 8.3 ফুট একটি সাধারণ জাহাজের তুলনায় এটি অনেক ছোট টাইটানকে বরং একটি মাইক্রোবাসের সাথে তুলনা করা যায় ছোট্ট এই ডুবোজানে একজন পাইলট এবং 4 জন যাত্রী সহ মোট 5 জন মানুষ আরোহন করতে পারেন টাইটানে ভ্রমণ করতে সাধারণত 8 ঘণ্টা সময় লাগে মোটামুটি বেশ দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হলেও এর ভেতরে 5 জন মানুষ নড়াচড়া করার মত তেমন জায়গা নেই
যানটি চালানোর জন্য শুধু 2টি মনিটর এবং একটি কন্ট্রোলার আছে এছাড়া টাইটানের ভেতরে আর তেমন কিছুই নেই এই সাবমারর্সিবল টি একটি সাধারন ভিডিও গেম খেলার জয়স্টিক দিয়ে চালানো হয় প্রযুক্তিগত দিক থেকে খুব বেশি উন্নত নয় সাবমার্রসিবল টি উপরে নিচে এবং ডানে-বামে পরিচালনা করার জন্য এর বাইরের দিকে চারটি ইলেকট্রিক টাস্ট আছে টাইটানের সামনে এক কোনায় পর্দা ঘেরা ছোট্ট একটি টয়লেট রয়েছে ডুবোজানটির পেছনের দিকে আছে বাকি যন্ত্রপাতি এবং অক্সিজেন ট্যাংক কেবিনের ভেতরে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড রিসাইকেল করে 50 শতাংশ অক্সিজেন আবার কেবিনে ফিরিয়ে দেওয়ার মত একটি যন্ত্র রয়েছে
সে কারণেই Ocean Gate কোম্পানী দাবি করে সাবমারর্সিবল টিতে 96 ঘণ্টার অক্সিজেন মজুত থাকে টাইটান সাবমারর্সিবল তার পূর্ণ সক্ষমতায় প্রতি ঘন্টায় 2.3 মাইল বেগে পানির নিচে নামতে পারে এবং সর্বোচ্চ 13 হাজার ফিট 4 কিলোমিটার পানির নিচ পর্যন্ত যেতে পারে। টাইটানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিয়ে টাইটানিকের ধ্বংসবস এর উপর দিয়ে ভ্রমণ করা এখনো পর্যন্ত খুব কম লোকই এই দৃশ্য নিজ চোখে দেখতে পেরেছে সর্বশেষ যাত্রায় টাইটান ও টাইটানিক এর ভাগ্য বরণ করেছে 5 জন যাত্রী নিয়ে ডুবোযান টাইটান রওনা দেওয়ার 1 ঘন্টা 45 মিনিটের মধ্যে মাতৃ জাহাজের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এই ঘটনার 8 ঘন্টা পর মার্কিন উপকূলরক্ষীদের বিষয়টি জানানো হয় তারপর থেকে শুরু হয় এক বিশাল উদ্ধার অভিযানে পরবর্তীতে কানাডিয়ান এবং ফরাসিরা ও মার্কিন বাহিনীর সাথে উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয়
ঠিক কি কারণে ডুবোজাহাজটি ধ্বংস হয়ে গেল সে বিষয়ে আসলে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না তবে গবেষকেরা বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য বিষয়ে ধারণা করেছেন
প্রথম: সম্ভাব্য কারণ হলো টাইটান হয়তো নিয়মিত টাইটানিক পর্যবেক্ষণের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে বিস্ফোরিত হতে পারে
দ্বিতীয়: সম্ভাব্য কারণ হলো যন্ত্রটির ব্যাটারি বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
তৃতীয়: কারণ হলো সাগরের এতো গভীরে পানির অনেক চাপ থাকে পানির প্রচুন্ড চাপে ডুবোযান দুমরে মুচরে যাওয়া কে বলে Implosion টাইটান এর ভাগ্যে এটি ঘটার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি
চতুর্থ: সম্ভবভো কারণ হলো সাবমারর্সিবল থাকা মাত্র কাচের জানালা টি ভেঙ্গে এর ভিতরে পানি ডুকে যেতে পারে
৫ম: কারণ সাবমারর্সিবল টি মাতৃজাহাজ থেকে ছোনার সিস্টেম সাহায্যে যুক্ত থাকে অনেকেই ধারণা করছেন টাইটান সাগর তলে অর্ধেক যাত্রা করার সময়ই মাতৃজাহাজ এর সাথে তার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায় এই যন্ত্রের নিজস্ব কোনো নেভিগেশন সিস্টেম না থাকার কারণে এটি যেকোনো ধরনের দূর্ঘটনায় জরিয়ে পড়তে পারে। অনেকেই আবার ধারণা করছেন এটি হয়তো সাগর তলে ভ্রমণ শেষে আবার উপরে উঠতে পারে কিন্তু এটি ভিতর থেকে খোলার কোনো ব্যবস্থা নেই
আরোহীদের কে বাহিরে বের করতে দরজা টি একমাত্র বাহির দিক থেকেই খোলা যায় তারা যেহেতু উদ্ধারকারীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি তাই এটি খুলে তাদের কে উদ্ধার কারাও সম্ভবত হয়নি কিন্তু বেশকিছু রিপোর্ট থেকে জানা যায় ওই এলাকায় একটি বিস্ফোরণ এর শব্দ পাওয়া গিয়েছিলো এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে সাবমারর্সিবল টি হয়তো ভেতর থেকে বিস্ফোরিত হয়ে 5 টুকরো হয়ে গেছে যার ধংস্বশেষ টাইটানিক থেকে মাত্র 1600 ফুট দূরে পরে ছিলো।
Tags
বিনোদন
