আমের অতুলনীয় স্বাদ আর মন মাতানো গন্ধের সাথে অন্য কোন ফলের তুলনা চলে না সেই সাথে আমে রয়েছে অসাধারণ সব পুষ্টি উপাদান সেজন্যই আম কে বলা হয় ফলের রাজা ভারত-পাকিস্তান ফিলিপাইন এবং হাইতির জাতীয় ফল আম আমরা অনেকেই সুস্বাদু এই ফলের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকি এবং আমের মৌসুমে আমরা সবাই কমবেশি আম খেয়ে থাকি কিন্তু এর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি আমে এত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান আছে যে একটি আম খেলে শরীরের প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদা আর একটি বড় অংশ মিটে যায় আমের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে চলুন জেনে নেওয়া যাক
বিশ্বব্যাপী আম জনপ্রিয় হলেও এটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের ফল সেজন্য আমের বৈজ্ঞানিক নাম ও Mangifera indica সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় 6 কোটি টন আম উৎপাদিত হয় এর প্রায় অর্ধেক আমই হয় ভারতের পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিনশ'রও বেশি প্রজাতির আম রয়েছে ধরন অনুসারে আমের স্বাদ, রঙ্গ ও গন্ধে ভিন্নতা দেখা যায় আমের পরিচিত জাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাড়র, আম রুপালি, খিরসাপাতি, গোপালভোগ, মল্লিকা, আলফানসো, ইত্যাদি আম পুষ্টি উৎপাদনে অত্যন্ত উপকারী ফল এতে আছে প্রচুর খনিজ লবণ এবং বিভিন্ন ভিটামিন আমে রয়েছে ভিটামিন এ ভিটামিন সি ভিটামিন b6
এছাড়া আছে অ্যামাইনো এসিড পটাশিয়াম ও কপার আমে থাকা আলফা ক্যারোটিন বিটা ক্যারোটিন লুশিয়েন জিলাইক এসিড ক্যফিক এসিড এবং কফিনের মতো উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বর্তমান সময়ের হূদরোগ অন্যতম এক ভয়ের কারণ আমে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন থাকায় তার হূদেরাগের ঝুঁকি কমায় রশালো আমে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি ও ফাইবার প্যাকটিন থাকে যার রক্তের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে আম খেলে শরীরের নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয় কারণ আমে আছে প্রচুর পটাশিয়াম যেকোনো পরিশ্রমের পর আম খেলে দ্রুত শক্তি ফিরে পাওয়া যায় এছাড়া শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া লবণের ঘাটতি পূরণ করে
আম শিশুদের স্মৃতি শক্তি বর্ধক হিসেবে আম খেতে দেওয়া যেতে পারে কারণ আমের গ্লুটামিক এসিদ মস্তিষ্কের কোষ উজ্জীবিত করে ফলে সৃতিশক্তির পাশাপাশি মনোযোগ বাড়ে সেই সাথে মস্তিষ্কের বাড়তি চাপ কমাতেও আম সাহায্য করে আমে আছে টারটারিক এসিড ম্যালিক এসিড এবং সাইট্রিক এসিড এসব উপাদান শরীরের অ্যালট্যালি নামক রাসায়নিক এর ভারসাম্য ঠিক রাখতে সহায়তা করে আমে আছে প্রচুর ভিটামিন এ এবং বি এই দুই ভিটামিন ঠান্ডাজনিত সমস্যা দ্রুত উপশম করে তাই ঠাণ্ডা কিংবা ফ্লু দেখা দিলে আম খাওয়া যেতে পারে এটি দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে হজমের নানা সমস্যা থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে আম আমের প্রচুর আঁশ থাকে তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা সমাধানে আম বেশ উপকারী
ত্বকের যত্নেও আম কার্যকরী কারণ আম ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে বিশেষ করে এটি ত্বকে ফুসকুড়ি দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এছাড়াও আম শরীরের ওজন না বাড়িয়েই প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেয় অধিক ফাস্টফুড খাওয়ার কারণে যাদের ওজন বেড়ে গেছে তারা ফাস্টফুডের বদলে আম খেলে ওজন কমার সম্ভাবনা রয়েছে আমে বেশ কয়েক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কোয়েরসেটিন, আইসোকোয়েরসেটিন, ফাইসেটিন, অ্যাস্ট্রাগ্যালিন,গ্যালিক এসিড, ও মিথাইল গ্যালেট, এসব উপাদান স্তন ক্যান্সার কোলন ক্যান্সার প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে
আমে নানা ধরনের উপকারিতা থাকলেও আম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে একসাথে খুব বেশি আম খাওয়া ঠিক নয় কারণ পাকা আমে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি তাই এই ফল খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় সেজন্য ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বেশি আম খাওয়া ক্ষতিকর যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের মাত্রা বুঝে আম খাবেন একটি মাঝারি আমে 3 গ্রাম ফাইবার থাকে তাই একসঙ্গে বেশি আম খেলে বদহজম ডায়রিয়া হওয়ার ভয় থাকে তাই কিছুটা বিরতি নিয়ে আম খাওয়া উচিত
Tags
স্বাস্থ্যপাতা
