![]() |
| Internet |
অল্প বয়সের শিশুদের ভিতর নতুন বন্ধু তৈরির একটা প্রাকৃতিক দক্ষতা থাকে। কিন্তু সেটা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হয়ে পড়ে কঠিন। কারণ আপনি চাইলেই অন্য কাউকে বলতে পারবেন না যে, আপনি কি আমার বন্ধু হবেন?। বন্ধু বানানোর সহজ উপায় কি কি এ বিষয়ে ১০টি পরামর্শ দেয়া হল। পরামর্শ গুলো মেনে আপনিও সহজে বন্ধু বানাতে পারবেন।
আরও পড়ুন: পুরনো প্রেম ভোলার উপায়
হ্যাঁ বলতে শিখুন
একদম নতুন পরিচিত হয়েছেন এমন কেউ যদি আপনাকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানান অথবা আপনাকে ছিনেমা হলের টিকিট অফার করে তাহলে তাকে হ্যাঁ বলে দিবেন। এ কারণে আপনি সাময়িক স্নায়ুচাপের মুখে পড়তে পারেন। আপনার মনে হতে পারে যে আপনি আপনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে কিছু করছেন। অবশ্যই জেনে রাখবেন যে, সাহস না রাখলে, কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়। যদি আপনি সত্যিকার অর্থে সেই সাহস করতে না পারেন, বা সে আপনাকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে সেটা আপনার মোটেও পছন্দ হচ্ছে না, তাহলে আপনি তাকে ভদ্র ভাবে না বলে দিন। তবে সেই না বলার ভিতর এটাও পরিষ্কার করে বলুন যেনো ভবিষ্যতে সে যদি আপনাকে আবাও আমন্ত্রণ জানান তাহলে সেটা আপনি সাদরে গ্রহন করবেন।
ক্লাবে বা সংগঠনে যোগ দিন
যে কোন একটি দল, সংগঠন, অথবা পছন্দের কোন বিষয়ের ওপর ক্লাস-ভিত্তিক কোর্সে যোগদানের মাধ্যমে আপনি নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন। সেখান থেকেই পেয়ে যেতে পারবেন আপনার প্রিয় বন্ধুকে বা বান্ধবীকে। একসাথে থাকার ফলে আপনার সহকর্মী বা সহপাঠীরা বুঝতে পারবে আপনার কিসের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। আপনার কয়েকটি বিষয় যখন অন্যজনের আগ্রহের সাথে মিলে যাবে ঠিক তখনই বন্ধুত্বের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাও যদি কোন মিল নাও থাকে, তাহলে নতুন ভাবে চেষ্টা করতেও তো কোন দোষ নেই। এর মাধ্যমে আপনি যেমন আপনার দক্ষতার দিকগুলো যাচাই বাচাই করতে পারবেন। তেমনি এটাও জানতে পারবেন কে হতে পারবে আপনার কাছের একজন বন্ধু বা বান্ধবী।
আরও পড়ুন: ভালো স্বামী হওয়ার উপায়
যোগাযোগ তৈরি করুন
কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে অথবা জিমে বা খেলার মাঠে গিয়ে যদি নতুন কারও সাথে আপনার পরিচয় হয় যার সাথে আপনি মিল পাচ্ছেন তাহলে তার মোবাইল নম্বর অথবা ইমেইল ঠিকানাটি চেয়ে নিবেন। কারণ সেই লোকের সাথে আপনার আবার দেখা হবে কিনা সেটার কোন নিশ্চয়তা নাই। এজন্য তার সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম বের করা খুব জরুরি। আপনার তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের দিন একটি মেসেজ লিখে জানান যে তার সাথে সময় কাটানোটা আপনি কতোটা উপভোগ করেছেন তার অনুভূতির কথা জানতে চান। তারপর তাকে কোথাও খেতে যাওয়ার জন্য বা কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া অথবা হাটতে যাওয়ার জন্য ডাকতে পারেন যেকোন একটা বাহানা দিয়ে বলবেন। নিজ থেকে এই একটা পদক্ষেপের কারণেই হয়তো আপনি পেতে পারেন আপনার প্রাণ প্রিয় বন্ধুকে বা বান্ধবীকে।
স্বেচ্ছাসেবক হোন
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার মানেটা কি সেটা আমরা নিশ্চয়ই জানি, সকল মানুষের প্রতি আপনার মমত্ববোধ আছে। এখন কথা হলো এই সেবাটা আপনার স্থানীয় কমিউনিটির প্রতি হোক অথবা আরও বড় পরিসরে হোক সেটা বিষয় না। বিষয়টা হল, এই কাজ করার মাধ্যমে আপনার নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হবে। আর এই মানুষগুলো তারাই হবে যাদের মন খুবই উদার। এবং একজন ভালো বন্ধুর ভিতরে এই গুনটাই সবথেকে বেশি থাকা চাই। বন্ধুত্ব যেকোন স্থানে হতে পারে, যেকোন সময়ে হতে পারে, এবং যে কারও সঙ্গেই হতে পারে, তাই কোন সুযোগ হাতছাড়া করতে দিবেন না।
প্রত্যাখ্যানের ভয় কাটিয়ে উঠুন
সম্পর্ক গড়ে উঠার সময় আপনার প্রতিটি প্রচেষ্টা যে কাজে লাগবে, এমন কোন কথা নেই। – কিন্তু আপনি যদি সবসময় প্রত্যাখ্যান হওয়ার ভয়ে থাকেন তাহলে আপনার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হবে না। সাহসী হতে হবে এবং নিজের প্রতি আস্থার জায়গাটা আরো একটু শক্তিশালী করতে হবে। আপনি যদি নতুন কারও সাথে পরিচয় হওয়ার পর তার সঙ্গে আবারও দেখা করার কথা বলেন এবং তাদের উত্তর যদি “না” সূচক হয়, তাহলে ভেঙ্গে পড়বেন না। কেননা আপনার জন্য এটাই পৃথিবীর শেষ সম্পর্ক নয়। হয়তো সেই ব্যক্তি আপনার জন্য ছিল না সে আপনার যোগ্য না। আপনার বন্ধু হওয়ার জন্য হয়তো এর থেকেও ভাল কোন ব্যক্তি অপেক্ষা করছে। মাঝে মাঝে না খুঁজেও আপনি পেতে পারেন আপনার প্রিয় বন্ধুকে।
আরও পড়ুন: ভালো স্বামী চেনার উপায়
কৌতূহলী হন
আপনি যদি লাজুক টাইপের হয়ে থাকেন অথবা কিছু বলতে গিয়ে আটকে যান, তাহলে সেই জড়তা কাটিয়ে তোলার সহজ উপায় টি হল অপর পাশের মানুষের বিষয়ে জানতে চাওয়া। কারণ অধিকাংশ মানুষই নিজের বিষয়ে কথা বলাটা পছন্দ করে সেটা উপভোগ করে। আর আপনি যদি ভাল শ্রোতা হয়ে থাকেন এবং ভবিষ্যতে তার সেই বিষয়গুলো টেনে আনেন। তাহলে আপনি বুঝে নিন যে আপনি খুব দ্রুত ভাল বন্ধু পেতে যাচ্ছেন। ভাল বন্ধু বা বান্ধবী আপনার ভাল বা খারাপ দুই সময়েই আপনার পাশে থাকবে আপনার সহযোগিতা করতে আসবে।
সহকর্মীদের বন্ধু বানান
বর্তমান সময়ে ব্যস্ত সমাজে পরিবারের চাইতে আমাদের বেশি সময় কাটাতে হয় কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে। সেইজন্য এই সহকর্মীদের বন্ধু বানানোর চেষ্টা করাটা যৌক্তিক বেপার। এটা মানতে হতে যে অফিসের অনেক কথায় আপনি হয়তো খুব কষ্ট পেতে পারেন। এমন সময় আপনি বিশ্বস্ত কোন সহকর্মীর কাছে নিজেকে একটু প্রকাশ করতে পারেন। হতে পারে সেও আপনাকে এর প্রতিদানে ভাল কিছু দেবে। কাজ শেষ করে তারপর কোথাও খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সেগুলোয় যোগ দিন। এমনকি আপনি ক্লান্ত হয়ে গেলেও হ্যাঁ বলুন। অথবা দুপুরের বিরতিতে আপনি সহকর্মী কাউকে নিয়ে আশেপাশে স্যান্ডউইচ দোকানে যেতে পারেন। অফিস থেকে দূরে কোথাও গেলে অথবা সহকর্মীর সঙ্গে কাজের বাইরে আরও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলা সহজ হয়ে যাবে। এতে করে সহকর্মীদের মধ্যে প্রকৃত বন্ধুতায় বদলে ফেলাও খুবই সহজ হয়ে যাবে।
প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসুন
বন্ধুর জন্ম তারিখ মনে রাখা অথবা তার দরকারী কোন কিছু কিনে দেয়ার মতো ছোট ছোট বিষয়গুলো মনে রাখা, বন্ধুত্ব গড়ে তোলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একইসাথে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করার সঠিক সুযোগ পাওয়া যায় খারাপ সময়গুলোতে। যদি আপনার সেই পছন্দের মানুষটি খারাপ সময় মধ্যে দিয়ে যান তাহলে তাকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন। সে যদি অসুস্থ থাকে তাহলে তার প্রিয় কোন খাবার নিজ হাতে তৈরি করে পাঠিয়ে দিন। অথবা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলতে পারেন। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোর মাধ্যমে আপনি তাকে বোঝাতে পারবেন, আপনি তার জন্য বন্ধু হিসেবে কতোটা দারুণ হবেন।
খোলা মনের মানুষ হন
একজন নতুন বন্ধুর প্রকৃতি নানা রকম বা বিভিন্ন রকম হতে পারে। সে ষোল বছরের হতে পারে আবার আশি বছরেরও হতে পারে, তার কাছে পাখি পছন্দ হতে পারে আবার শুধু বিড়াল পছন্দ হতে পারে। তার পছন্দের গান হতে পারে হিন্দি বা বাংলা। এই কথা মনে রাখবেন যে, ভিন্ন ব্যক্তিত্ব আমাদের বেশি আকর্ষণ করে। সেই জন্য প্রথম দেখায় কাউকে বিচার করা ঠিক হবে না – প্রত্যেকেই একটা সুযোগ দিবেন। আপনি সেইসব মানুষদের কথা চিন্তা করুন ভাবুন যাদের আপনি প্রথম দেখায় ভীষণ বিরক্তিকর ভেবেছিলেন, অথচ যারা কিনা এখন আপনার খুবই প্রিয় মানুষ।
সময় দিন
রাতারাতি যেকারো বন্ধু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।বন্ধুত্বকে লালন করতে হয় যত্ন করতে হয়। এজন্য নতুন কারও সাথে বন্ধুতা গড়ে উঠার ক্ষেতে সেটাকে বাড়িয়ে তুলতে এর পেছনে আপনার মূল্যবান সময় এবং যত্ন বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ বিশ্বাস ও ভরসার ভিত্তি সময়ের সাথে সাথে শক্ত মজবুত হয়ে ওঠবে। নতুন বন্ধু তৈরির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশটা হল আপনি তাকে যেটা দিতে পারবেন, সেটার উপর বিশ্বাস রাখা। ইতিবাচক ভাবে ভাবার চেষ্টা করবেন। নিজের প্রতি যত্নও নিন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরও পড়ুন: নারীর মন জয় করার কৌশল
